ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধুনটে এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০৯ ১৩:১৪:০১
ধুনটে এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক ধুনটে এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে এলাকাভেদে একজন শ্রমিকের জন্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। কষ্টে ফসল ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখ মলিন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম বাড়েনি। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।

কথা হয় উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে, তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি। এ কারণে ক্ষতির আশঙ্কায় আছি। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম কমে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, বুঝতে পারছি না। ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে।

খাদুলী গ্রামের কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, শ্রমিকের মজুরী, কীটনাশক সহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে। এবার ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে।

তিনি বলেন, জমির ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ ছাড়া কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ